মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

মঙ্গলগ্রহে যেতে আগ্রহীদের খুঁজতে শুরু করেছে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি মার্স ওয়ান। তবে লাল গ্রহটিতে শুধু যাওয়ার ব্যবস্থা করবে কোম্পানিটি। আসার কোনো সুযোগ থাকবে না—যাকে বলে ওয়ানওয়ে টিকিট। অর্থাত্ নির্বাচিত প্রার্থীরা শুধু মঙ্গলগ্রহে যেতে পারবেন। সেখান থেকে এই ধরাধামে আর ফিরতে পারবেন না।
নিউইয়র্কে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্স ওয়ানের সিইও বাস ল্যান্সডর্প ঘোষণা করেন, যে কেউ মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা যাওয়ার সুযোগ পাবেন তারা কখনোই পৃথিবীতে ফিরতে পারবেন না। কারণ এখনো এমন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি যে, মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে ফেরত আসা যাবে।
ল্যান্সডর্প বলেন, ‘আজ থেকে মার্স ওয়ান মঙ্গলগ্রহের বাসিন্দাদের অনুসন্ধানের কাজ শুরু করল। বিশ্বের যে কোনো দেশের লোক মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপন করতে পারবেন। অলাভজনক সংস্থা মার্স ওয়ান ২০২৩ সালে মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠাবে। এরপর প্রতি দু’বছর পরপর নভোচারী পাঠানো হবে। ল্যান্সডর্প বলেন, তাদের উদ্দেশ্য মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী উপনিবেশ স্থাপন করা।
মঙ্গলগ্রহে অভিযানের যাত্রা শুরুসহ এর বিভিন্ন দিক ইনটারনেটে প্রচার করা হবে এবং বিশ্বের ৪০০ কোটি লোক তা দেখবে বলে জানান ল্যান্সডর্প।
ল্যান্সডর্প জানান, আগ্রহীদের ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এই ফির মাধ্যমেই যোগাড় করা হবে প্রাক্কলিত ৬০০ কোটি ডলার ব্যয়। 
আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ১৮-৪০ বছর। তাদের থাকতে হবে সুস্বাস্থ্য। তাকে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করতে হবে এবং অবশ্যই ভালো ইংরেজি জানতে হবে। উড্ডয়নের আগে মঙ্গলগ্রহের অভিযাত্রীদের সাত বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাত্রা শুরুর পর লাল গ্রহটিতে পৌঁছতে সাত মাস সময় লাগবে।
পৃথিবীতে আর ফিরতে পারবে না—এমন অবস্থায় কাউকে মঙ্গলগ্রহে পাঠানো নৈতিক দিক থেকে সমর্থনযোগ্য কিনা জানতে চাইলে ল্যান্সডর্প বলেন, এই অভিযাত্রা ‘আদর্শিক’ এবং ‘এটা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে’।
মার্স ওয়ান এরপর দুই বছর পরপর মঙ্গলগ্রহে নভোযান পাঠাবে। দ্বিতীয়বার পাঠানো হবে ২০২৫ সালে। প্রতিটি নভোযানে থাকবে দুজন নারী ও দু’জন পুরুষ। তবে তাদের সন্তান ধারণের সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হবে না। 
বিষয়টির ব্যাখ্যা করে ল্যান্সডর্প বলেন, ‘এসব লোক মঙ্গলগ্রহে ক্ষুদ্র পরিবেশে বাস করবে। এটা হবে বিপজ্জনক পরিবেশ। কাজেই সম্ভাব্য বাবা-মাকে নিজেদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে যে সেখানে সন্তান নেয়া ঠিক হবে কিনা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের মঙ্গলগ্রহে পাঠাচ্ছি তারা সবাই হবেন দায়িত্বশীল লোক।’
ল্যান্সডর্পের মতে, মঙ্গলগ্রহে অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
ল্যান্সডর্প জানান, নভোচারীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই রোবট পাঠিয়ে তাদের জন্য বাসযোগ্য বসতি স্থাপন করা হবে। সেখানে থাকবে ব্যায়ামের সামগ্রী। তারা বর্তমানের স্কাইপ আদলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীতে বসবাসরত তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে সংযোগ পেতে স্থানভেদে ৬ থেকে ২০ মিনিট বিলম্ব হতে পারে। সেখানে তাদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও থাকবে টেলিভিশনের ব্যবস্থা। 
মার্স ওয়ান জানিয়েছে, এরই মধ্যে পৃথিবীর ১০০টি দেশ থেকে ১০ হাজার সম্ভাব্য আবেদনকারী তাদের কাছে নানা তথ্য জানতে চেয়েছেন। 
তথ্যসূত্র : সিএনএন, আল জাজিরা ও সায়েন্স ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন